আবু হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার: দেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাতের স্থান শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান এ এবার ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে প্রায় সাত লাখ মুসল্লির অংশগ্রহণে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত ১৯৯তম এই ঈদ জামাতে ইমামতি করেন শহরের বড়বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শৃঙ্খলা এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় জামাত।
ভোরের আলো ফোটার আগেই শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান পরিণত হয় জনসমুদ্রে। দেশের ৬৪ জেলা ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলে দলে মুসল্লিরা ছুটে আসেন এই ঐতিহাসিক ময়দানে। কেউ আত্মীয়ের বাসায়, কেউ মসজিদে, আবার অনেকে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করেন শুধুমাত্র একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে।
সকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঈদগাহ ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় আশপাশের সড়ক, ভবনের ছাদ এবং নরসুন্দা নদী তীরেও কাতারে কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা।
জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, দেশ-বিদেশ থেকে আগত মুসল্লিদের অংশগ্রহণে এবারের জামাত ছিল নজিরবিহীন। তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ উপস্থিতি। প্রশাসনের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে শান্তিপূর্ণভাবে জামাত সম্পন্ন হয়েছে।”
শোলাকিয়ার ঐতিহ্য অনুযায়ী, জামাত শুরুর ১০ মিনিট আগে ৫টি, ৫ মিনিট আগে ৩টি এবং ১ মিনিট আগে ২টি করে মোট তিন দফায় শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে মুসল্লিদের প্রস্তুতির সংকেত দেওয়া হয়। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং বিশেষ করে ফিলিস্তিনের মুসলমানদের জন্য দোয়া করা হয়।
ঐতিহাসিক এই ঈদ জামাত শুধু নামাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এটি পরিণত হয়েছে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও ইসলামী ঐক্যের এক অনন্য মিলনমেলায়। জামাতে অংশ নেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

