ঢাকাশুক্রবার , ১৩ মার্চ ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কবিতা ও গল্প
  6. কৃষি ও ঐতিহ্য
  7. খেলা
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. দূর্নীতি
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচন
  13. প্রশাসন
  14. বিনোদন
  15. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ খবর

শেষ বয়সে পরিবারহীন মানুষের ঠিকানা নান্দাইলের ‘মাতৃছায়া বৃদ্ধাশ্রম’।।প্রয়োজন একটু মানবিক সহায়তা

মো: শাহজাহান ফকির, নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ১৩, ২০২৬ ৫:১০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চর বেতাগৈর ইউনিয়নের চকামটখালী গ্রামে নিভৃত পল্লীর এক শান্ত পরিবেশে গড়ে উঠেছে ‘মাতৃছায়া সমাজকল্যান সংস্থা ও বৃদ্ধাশ্রম’। যেখানে পরম মমতায় ঠাঁই করে নিয়েছেন নিজ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া ১৮ জন অসহায় বৃদ্ধ মা-বাবা। বৃদ্ধাশ্রমের পরিচালক রফিকুল ইসলামের সরকারি নিবন্ধনপ্রাপ্ত (রেজিঃ নং: ম-০২১০৯) এই প্রতিষ্ঠানটি এখন এসব নিঃস্ব পরিবারহীন মানুষের শেষ ঠিকানা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে এই আশ্রমে ১৮ জন অসহায় নারী ও পুরুষ বসবাস করছেন। তাদের দেখাশোনার জন্য নিয়োজিত রয়েছেন আরও চারজন কর্মী। আশ্রিত এই মানুষগুলো দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে এসেছেন। জীবনের পড়ন্ত বেলায় যাদের পাশে আপনজন থাকার কথা ছিল, ভাগ্যচক্রে আজ বৃদ্ধাশ্রমই তাদের একমাত্র ঠিকানা। সারাদিন ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে তাদের সময় কাটে—এ যেন এক অজানা অপেক্ষার প্রহর। পরিবারের কথা মনে পড়লে দু’চোখে অশ্রু ঝরলেও, মাতৃছায়ার নিরাপদ আশ্রয়ে দু’বেলা দু’মুঠো খাবার পেয়ে তারা এখন সন্তুষ্ট।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোঃ রফিকুল ইসলামের প্রচেষ্টায় এই সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তার ছেলে পারভেজ হাসান জানান, “শুরুতে বাবার এই উদ্যোগ আমাদের কাছে কিছুটা অন্যরকম মনে হলেও এখন আমরা সবাই এর সঙ্গে যুক্ত। এটি যেন বিধাতার এক পবিত্র খেলা। সরকারিভাবে সামান্য চাল সহায়তা পাওয়া গেলেও রোগীদের চিকিৎসা ও অন্যান্য খাবারের খরচ মেটাতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়। বিশেষ করে এই রমজান মাসে ইফতার বা অন্যান্য দান-অনুদান নেই বললেই চলে।”

পারভেজ হাসান আরও জানান, আশ্রমে বসবাসরতদের কেউ মারা গেলে যেন যথাযোগ্য সম্মানের সাথে দাফন করা যায়, সেজন্য একটি কবরের জায়গাও নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে।

পরিচালকের স্ত্রী কল্পনা আক্তার বলেন, “আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি তাদের সেবা দেওয়ার। এখানে একটি আধাপাকা রান্নাঘর তৈরি করা হলেও অর্থাভাবে চালের কাজ বাকি রয়ে গেছে। টিন ও কাঠ হলে রান্নাঘরটি সম্পন্ন করা সম্ভব হতো।” এছাড়া শ্রম দেওয়া লোকজনের জন্য একটু মাসিক সম্মানির ব্যবস্থা করলে আরো ভালো হতো।

এ বিষয়ে নান্দাইলের সিনিয়র সাংবাদিক এনামুল হক বাবুল জানান, এ উপজেলা সহ আশপাশের উপজেলায় কোন বৃদ্ধাশ্রম নেই, এটাই একমাত্র বৃদ্ধাশ্রম। বর্তমানে রমজান মাস ও সামনে ঈদ। মানুষ-মানুষের জন্য কথাটি বিবেচনা করে, সমাজের বিত্তশালী ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা যদি তাদের যাকাত বা দানের একটি অংশ এই অসহায় মা-বাবাদের জন্য প্রদান করেন, তবে তারা আরও উন্নত পরিবেশে শেষ জীবনটা পার করতে পারবেন। পাশাপাশি এ বৃদ্ধাশ্রমটির অবকাঠামোগত উন্নয়নের নান্দাইলের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন

সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা: মাতৃছায়া সমাজকল্যান সংস্থা ও বৃদ্ধাশ্রম। চরকামটখালী, চর বেতাগৈর ইউনিয়ন, নান্দাইল, ময়মনসিংহ। পরিচালনায়: মোঃ রফিকুল ইসলাম, যোগাযোগ: ০১৭৮৭-৩৮৫৭০৯

 

এই ওয়েবসাইটের সকল কোনো লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও “norsundanews24” কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।