নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি), দাখিল ও কারিগরি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় সামগ্রিক ফলাফলে যেসমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বড় ধরনের বিপর্যয় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে সাধারণ এসএসসি পরীক্ষায় অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছে এবং দাখিল পরীক্ষায় একটি মাদরাসার জনের মধ্যে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এসএসসিতে ২,৪৬৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১,১৮০ জন পাস করেছে। ফেলের হার ৫৬ শতাংশ, যা চরম উদ্বেগজনক। ফলাফলের তলানিতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ‘চর উত্তর বন্দ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়’। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ২৮ জন পরীক্ষা দিলেও পাস করেছে মাত্র ৩ জন, পাসের হার মাত্র ১০.৭১%। এছাড়া হাজী হাফিজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৫ জন পাস করেছে, পাসের হার মাত্র ২৩.৮৩%, শাহ্নুরুন্নবী বিদ্যাপীঠ তারাপাশা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৫ জন পরীক্ষার্থীর মাত্র ১১ জন পাস করেছে, পাসের হার মাত্র ৩১.৪৩% এবং দেওয়ানগঞ্জ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ৪৭ জনের মধ্যে মাত্র ১৫ জন পরীক্ষার্থীতে পাসের হার ৩১.৯১% ও উদং মধুপুর উচ্চ বিদ্যালয় ৬৫ জনের মধ্যে মাত্র ২২ জন পাস করেছে, পাসের হার ৩২.০০%।
দাখিল পরীক্ষায় ফলাফলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে ‘কড়ইকান্দি মফিজ উদ্দিন আকন্দ দাখিল মাদরাসা’। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও একজনও পাস করতে পারেনি, অর্থাৎ পাসের হার ০.০০%। এছাড়া রাজাপুর ফাজিল মাদরাসার ফলাফলও অত্যন্ত হতাশাজনক, যেখানে ২৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ২ জন (পাসের হার ৭.৬৯%)। অপরদিকে গইছখালী গাফুরিয়া দাখিল মাদরাসায় ৩৫ জনের মধ্যে মাত্র ৮ জন, পাসের হার মাত্র ২২.৮৬% এবং আলহাজ্জ্ব আব্দুল কদ্দুছ ভূইয়া দাখিল মাদ্রাসায় ৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২ জন পাস ও রাজপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় ৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৩ জন পাস করেছে, উভয় প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ৩৩.৩৩%।
এছাড়া কারিগরি ও ভোকেশনাল শাখাতেও ফলাফলের চিত্র সন্তোষজনক নয়। এখানে মোট পাসের হার ৫২.৫৩%। সর্বনিম্ন ফলাফল করেছে ‘সিংদই কারিগরি ইনস্টিটিউট’, যেখানে ১৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৩ জন পাস করেছে (পাসের হার ২১.৪৩%) এবং মিশ্রিপুর রাহিমিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৪ জন পরীক্ষার্থীর মাঝে মাত্র ৩ জন পাস করেছে। এছাড়া নান্দাইল রোড উচ্চ বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখায় ১৩ জনের মধ্যে মাত্র ৩ জন পাস করায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ২৩.০৭%।
উপজেলার এসব প্রতিষ্ঠানে গণহারে ফেল এবং পাসের হারের নিম্নমুখী প্রবণতায় অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষক ও সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কেন এই ফল বিপর্যয়, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত তদারকির অভাব এবং পাঠদানে অবহেলাই এই ভরাডুবির প্রধান কারণ।
নান্দাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মুফিজুল ইসলাম জানান, যে প্রতিষ্ঠানে একজনও পাস করেনি, সেটা এমপিওভূক্ত নয়। তবে যেসমস্ত প্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে, তাদেরকে জবাবদিহিতায় আনা হবে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে আরও কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
![]()

