নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ৮নং সিংরইল ইউনিয়নে মাত্র দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা এখন ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের চরম দূর্ভোগের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। বর্ষা মৌসুম এলেই রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে মরণফাঁদে পরিণত হয়। বছরের পর বছর এই দুর্ভোগ চললেও রাস্তাটির উন্নয়নে কেউ এগিয়ে আসেনি। যুগ যুগ ধরে অবহেলিত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এই রাস্তাটির সংস্কার ও পাকাকরণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসেরর খান চৌধুরীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিংরইল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের খাজার বাজার হয়ে ছাত্রনেতা আলমগীর হোসেনের বাড়ির সামনে দিয়ে হোসেনপুর থানা ও পানান আদর্শ দাখিল মাদ্রাসা পর্যন্ত রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী। সামান্য বৃষ্টিতেই আশপাশের গ্রামের মানুষকে হাঁটু সমান কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। রাস্তার মাঝেমধ্যে বৃষ্টির পানি জমে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা ছোটখাটো পুকুরের মতো দেখায়। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রাস্তায় খানাখন্দ আর পিচ্ছিল কাদার কারণে অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো ক্লাসে পৌঁছাতে পারে না। প্রায়ই শিক্ষার্থীরা পিচ্ছিল রাস্তায় পড়ে গিয়ে বই-খাতা ও ইউনিফর্ম নষ্ট করে অশ্রুসিক্ত নয়নে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক হওয়ায় কোন ধরনের যাববাহনই চলালচল করতে পারছে না। এই এলাকার কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত মারাত্মকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল সঠিক সময়ে বাজারে নিতে পারছেন না, ফলে তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আবার জরুরি প্রয়োজনে কোনো অসুস্থ রোগী কিংবা প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে নিতে হলে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হয়; অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি যানবাহন গ্রামে ঢুকতেই পারে না।
স্থানীয় ছাত্রনেতা প্রবাসী আলমগীর হোসেন বলেন, “ আমরা এই অভিশপ্ত রাস্তা থেকে মুক্তি চাই। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন জোয়ারে আমরা কেন পিছিয়ে থাকব? আমাদের এই কষ্টের কথা চিন্তা করে আমরা স্থানীয় এমপি ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শামীম মিয়া বলেন, “রাস্তাটির বেহাল দশা সম্পর্কে আমরা অবগত। এটি পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে এবং ইতিপূর্বে আইডিভুক্ত করা হয়েছে।”
সিংরইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম জানান, “রাস্তাটিতে ইতিপূর্বে মাটি কাটা হয়েছিল, কিন্তু বৃষ্টির কারণে মাটি ধুয়ে আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী যদি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে অবগত করেন, তবে দ্রুত বরাদ্দ পাওয়ার মাধ্যমে ইটের সলিং বা পাকাকরণ সম্ভব হবে।”

