[ সম্প্রদায়ের লোকজনের সততা স্বীকার ]
নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইলে সংখ্যালঘুর দোহাই দিয়ে সেলিম মিয়া (৪৫) নামে এক মুসলিম পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা নালিশ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি উঠেছে উপজেলার নান্দাইল ইউনিয়নের সকুমার বর্মনের স্ত্রী গীতা রাণীর বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন তথা তাঁর প্রতিবেশীরা গীতা রাণীর দায়েরকৃত মিথ্যা অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে এবং হয়রানিমূলক এরকম ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। পাশাপাশি প্রতিবেশী সেলিম মিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সরেজমিনে পরিদর্শন করে জানা গেছে, নূর মোহাম্মদের পুত্র সেলিম মিয়ার প্রতিবেশী সকুমার বর্মনের স্ত্রী গীতা রাণী। সম্প্রতি শারদীয় দুর্গাপূজার সময় বাড়ির পিছনে ক্ষেতের আইল দিয়ে চলাচল করার রাস্তায় বড়ই গাছের ডাল দিয়ে রাস্তা বন্ধ করার বিষয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন গীতা রাণী। কিন্তু সেলিম মিয়া জানান, ওই রাস্তা ঘেঁষে জমিতে মাসকলাই বুনেছেন তিনি। লোকজন ক্ষেতের আইল দিয়ে না গিয়ে ক্ষেতের মাঝ বরাবর দিয়ে যাতায়াত করায় ফসল বিনষ্ট হচ্ছে। এমতাবস্থায় তিনি রাস্তা একটু খোলা রেখেই পথ বন্ধ করেছিলেন বটে, পরক্ষণেই স্থানীয় লোকজনই তা সরিয়ে দেন।
কিন্তু গত শনিবার (৩রা অক্টোবর) গীতা রাণীর বাড়ির সামনে দিয়ে নিজ বাড়িতে যাওয়ার সময় দৌড়ে এসে পথ আটকে সেলিমকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছে বলে জানান সেলিম মিয়া এবং এলাকাবাসী। কিন্তু বিষয়টি সেখানেই শেষ না করে ওই দিনই গীতা রাণী নান্দাইল মডেল থানা পুলিশের নিকট একটি অভিযোগ দায়ের করায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
তবে গীতা রাণীর সম্প্রদায়ের লোক রমেশ কুমার বর্মন, ছায়ারাণী, সুভাসী রাণী বর্মন, সুবাস চন্দ্র পাল সহ সেলিম মিয়ার চাচা আবু সাঈদ, স্থানীয় ইউপি সদস্য সোমা রাণী পাল সহ আরও অনেকে জানান, এ ঘটনাটি তাঁরা শুনেছেন। তাঁরা জানান, সেলিম মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন কোনো ধরনের জুলুমবাজ বা অত্যাচারী নয়। কিন্তু ওই গীতা রাণী এলাকায় অশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করেই চলেছে। তাঁর কারণে এলাকার লোকজনের বদনাম হচ্ছে।
এ বিষয়ে সেলিম মিয়া জানান, গীতা রাণী শনিবার হঠাৎই আমাকে রাস্তায় পেয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে থানায় চলে যায় এবং আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে। অথচ এলাকাবাসী সবাই জানে আমি কেমন মানুষ।
তবে এ বিষয়ে গীতা রাণীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

