আবু হানিফ পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ছোট ভাইকে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদসহ জমি জবরদখল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চার বড় ভাই— মো. সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, মো. বজলুর রহমান ভূঁইয়া, মো. নুরুল ইসলাম ভূঁইয়া ও কামরুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে।
এই অভিযোগে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ছোট ভাই মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া। রবিবার (১৯ অক্টোবর) সকালে পাকুন্দিয়া পৌর সদরের একটি অনলাইন গণমাধ্যমের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ভুক্তভোগীর ছেলে এহসানুল হকও উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগী পরিবারটি উপজেলার নারান্দী ইউনিয়নের পোড়াবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাদের বাবার নাম মৃত আ. আলী ভূঁইয়া।
সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, গ্রামের পোড়াবাড়িয়া ও কর্শাকুড়িয়াল মৌজার ছয়টি দাগে তার ভাগের অন্তত এক একর ফসলি জমি চার ভাই মিলে দখল করে রেখেছেন। তার প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো গালাগাল ও হামলার চেষ্টা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, “২০০০ সালে আমি কিশোরগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে বাটোয়ারা মামলা দায়ের করি। ২০২২ সালে আদালত আমার পক্ষে রায় ও ডিক্রি দেন। পরে তারা আপিল করলে আদালত আপিল খারিজ করে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বড় ভাই সিরাজুল ইসলাম ও তার ভাতিজারা আমাকে ও আমার ছেলেকে মারধর করে। এলাকাবাসী এগিয়ে এসে আমাদের রক্ষা করে।”
এ ঘটনায় তার ছেলে এহসানুল হক বাদী হয়ে পাকুন্দিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নজরুল ইসলামের অভিযোগ, এরপর থেকে তার ছেলেকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ভয় পেয়ে এহসানুল হক স্ত্রীসহ কিশোরগঞ্জ শহরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বড় ভাই মো. সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “আমার পিতা ১৯৭৩ সালে আমার ও ছোট ভাই বজলুর রহমানের নামে ৫২ শতাংশ জমি হেবা দেন। পরের বছর ১৯৭৪ সালে নজরুল ইসলামের নামেও ৫২ শতাংশ জমি হেবা করা হয়। ওই জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। আদালত যে রায় দেবে, আমরা সেটিই মেনে নেব।”

