আবু হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। উপজেলার পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নে ২৪৮টি অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র এবং ১টি স্থায়ী কেন্দ্রে একযোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ৩২ হাজার ১৪৪ জন শিশুকে টিকা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে টিকাদান কর্মসূচির কোনো বিকল্প নেই। হাম ও রুবেলার মতো মারাত্মক সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ে শিশুদের টিকা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোঃ নাজিবুল হক, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শামীমা বেগমসহ স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এসময় তারা টিকাদান কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করেন এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, এ কর্মসূচির আওতায় স্কুল পর্যায়ের ৪ হাজার ৭৭৬ জন শিশু এবং ৬ মাস থেকে ৫ বছরের নিচে আরও ২৭ হাজার ৩৬৮ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়।
পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূর-এ-আলম খান বলেন, “সম্প্রতি সারাদেশে হাম ও রুবেলার সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে ৫ বছরের নিচে সব শিশুকে টিকার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাকুন্দিয়ায় ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি আগামী ৫ মে পর্যন্ত চলবে।”
তিনি আরও জানান, টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে, যাতে কোনো শিশু টিকার বাইরে না থাকে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, নির্ধারিত তারিখ ও কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে শিশুদের টিকা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। কারণ হাম ও রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক এবং কখনো কখনো প্রাণঘাতীও হতে পারে। সময়মতো টিকা গ্রহণই এ ধরনের রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
উল্লেখ্য, সরকার ঘোষিত জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশেই একযোগে এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে

