নিজস্ব প্রতিবেদক : ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় যথাযথ মর্যাদা ও জাঁকজমক ছাড়াই দায়সারাভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা-২০২৬। শনিবার (২৩ মে) সকালে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে স্থানীয় সরকারি শহীদ স্মৃতি আদর্শ কলেজ মাঠে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। তবে সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও উৎসবহীন ও বিশৃঙ্খল এই আয়োজন নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যেই তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে শহীদ স্মৃতি আদর্শ কলেজ মাঠে গিয়ে দেখা যায় এক হতাশাজনক চিত্র। মাঠের পশ্চিম পাশে খোলা আকাশের নিচে কয়েকটি প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে আছেন কয়েকজন শিক্ষক। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসা শিক্ষার্থীরা কোনো নির্দেশনা ছাড়াই যত্রতত্র ঘোরাঘুরি করছে। মাঠের একপাশে কর্দমাক্ত জায়গায় কিছুটা বালু ফেলে দীর্ঘ লাফ প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি চলছে। কোনো সুসজ্জিত মঞ্চ বা আনুষ্ঠানিক পরিবেশ চোখে পড়েনি। অনেক প্রধান শিক্ষক এমন অব্যবস্থাপনা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে দেখা গেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১৯ মে থেকে বিদ্যালয় পর্যায়ে এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এতে ক্রীড়া, কবিতা আবৃত্তি, গল্প বলা, নৃত্য, চিত্রাঙ্কন ও কুইজসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ধাপ পেরিয়ে আজ উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, যেখানে ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিজয়ীরা অংশ নিচ্ছে। এখান থেকে বিজয়ীরা জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গত ৭ মে-এর এক পত্রে এই প্রতিযোগিতার জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যয় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে বিদ্যালয় পর্যায়ে ৪ হাজার টাকা, ইউনিয়ন পর্যায়ে ৫ হাজার ২০০ টাকা এবং উপজেলা পর্যায়ের জন্য ২৪ হাজার ২০০ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও প্যান্ডেল বা বসার সুব্যবস্থা না থাকায় আয়োজকদের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রধান শিক্ষক আক্ষেপ করে বলেন, “সরকারি টাকা বরাদ্দ থাকার পরও এমন খোলা আকাশের নিচে বসে থাকা চরম অপমানের। ইউনিয়ন পর্যায়ের আয়োজনও এর চেয়ে অনেক বেশি জাঁকজমকপূর্ণ ছিল। শিক্ষকদের বসার জায়গা নেই, শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো সুশৃঙ্খল পরিবেশ নেই। এটি জাতীয় পর্যায়ের একটি প্রতিযোগিতার নামে প্রহসন ছাড়া আর কিছু নয়।” আয়োজনের ঘাটতি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপস্থিত উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনোয়ারুল ইসলাম জানান, পূর্বনির্ধারিত ভেন্যু চন্ডীপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আজ শনিবার গরুর হাট বসায় শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে এখানে স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সালমা আক্তার বলেন, “পরবর্তীতে বিজয়ীদের মাঝে বড় করে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান করা হবে। সেই অনুষ্ঠানে বরাদ্দের বাকি টাকা ব্যয় করা হবে বলে এখন খরচ কমানো হচ্ছে।” তবে বিষয়টি নিয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আবু ইউসুফ খান বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি মুঠোফোনে জানান, সরকারি বরাদ্দ থাকার পরেও কেন এমন দায়সারা আয়োজন করা হলো, সে বিষয়ে তিনি দ্রুত খোঁজ নেবেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। জাতীয় পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় এমন অব্যবস্থাপনা স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থার ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
