অনলাইন ডেক্স: ময়মনসিংহের নান্দাইলে একটি হত্যা মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার মাত্র একদিন পরই মো. মামুন মিয়া (৪৫) নামে এক সিএনজিচালকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ভোরে উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের পাঁছরুখি তালতলা মাদরাসার কাছ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পরিবারের লোকজন বাড়িতে নিয়ে যায়। মামুন হত্যা ও একাধিক মাদক মামলার আসামি হওয়ায় তার এই মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত মো. মামুন মিয়া উপজেলার চরবেতাগৈর ইউনিয়নের চরউত্তরবন্দ গ্রামের মো. হাসেন মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় সিএনজিচালক হলেও এলাকায় ‘চিহ্নিত মাদককারবারি’ ও ‘চোর’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নান্দাইল থানায় মামুনের বিরুদ্ধে চুরির মামলা ছাড়াও একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে। এছাড়া কিশোরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলারও আসামি ছিলেন তিনি। গতকাল বুধবারই তিনি কিশোরগঞ্জ আদালতে হাজিরা দিয়ে ওই হত্যা মামলায় জামিন লাভ করেন।
স্থানীয়রা জানান, মামুনের ভায়রা ভাই আব্দুল হান্নানও একজন চিহ্নিত ডাকাত, যার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। বুধবার গভীর রাতে মামুন ও হান্নান একটি প্রাইভেট কারে করে শেরপুর ইউনিয়নের খামাইর্যা এলাকায় যান। এলাকাবাসী তাদের ধাওয়া করলে গাড়ি ফেলেই দুজনে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় মামুন মিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তবে ঘটনার পর থেকে প্রাইভেট কারসহ হান্নান পলাতক রয়েছে।
নিহত মামুনের স্ত্রী শেফালি বেগম গণমাধ্যমকে জানান, তার স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার কথা তিনি স্বীকার করেছেন। বুধবার আদালত থেকে জামিন পেয়ে বাড়ি ফেরার পর মামুন সিএনজি নিয়ে বেরিয়ে যান। পরে ভোররাতে তিনি স্বামীর স্ট্রোক করে মৃত্যুর খবর পান। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা। শেফালি আরও জানান, তার স্বামী প্রায়ই ছোট বোনের স্বামী হান্নানের সঙ্গে চলাফেরা করতেন এবং ঘটনার রাতেও তারা একসঙ্গেই ছিলেন।
এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মুজাহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

