ঢাকারবিবার , ৮ মার্চ ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি ডেস্ক
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কবিতা ও গল্প
  6. কৃষি ও ঐতিহ্য
  7. খেলা
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. দূর্নীতি
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচন
  13. প্রশাসন
  14. বিনোদন
  15. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ খবর

নারী কৃষক ছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা অসম্ভব: অথচ নারীদের প্রতি বৈষম্য ও সম্ভাবনার বিষয়ে বাস্তবতা 

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ৮, ২০২৬ ২:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে অন্যচিত্র ফাউন্ডেশন রোববার (৮ মার্চ) ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র চর এলাকার জয়নুল উদ্যানে “নারী কৃষকের ভূমিকা পল্লী জীবন এবং নারী কৃষক সমস্যার উত্তরণের পথ” শীর্ষক আলোচনা সভা এবং নারী কৃষকদের পণ্য প্রদর্শনী ও সম্মাননা উৎসব আয়োজন করে। খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক- খানি বাংলাদেশের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেন নারী কৃষক, সরকারি প্রতিনিধি, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় সমাজের প্রতিনিধিরা ও সাংবাদিকসহ প্রায় শতাধিক অংশগ্রহণকারী।

দিনব্যাপী আয়োজনে নারী কৃষকেরা শাকসবজি, ফল, ডাল, মসলা, ধান, ঘরে তৈরি খাদ্যপণ্য ও কারুশিল্পসহ নিজস্ব উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয়ের সুযোগ পান। স্থানীয় ক্রেতা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের পণ্যের পরিচিতি এবং বাজারসংযোগ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়। পণ্য বিক্রির পাশাপাশি তারা নিজেদের শ্রম, অভিজ্ঞতা ও উৎপাদন প্রক্রিয়া ভাগ করে নেন, যা উপস্থিত সবার কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, এ বছরের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার; সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার” এবং আন্তর্জাতিক থিম “Give to Gain”—দুটিই নারী কৃষকের বাস্তবতার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। দেশের কৃষি–অর্থনীতিতে নারী কৃষকের অবদান অপরিসীম হলেও তাদের শ্রমের স্বীকৃতি, ভূমির মালিকানা, কৃষিঋণ, প্রণোদনা প্রাপ্তি, বাজার সংযোগ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ এখনো কাঠামোগত বৈষম্যের কারণে সীমাবদ্ধ। মাত্র চার থেকে পাঁচ শতাংশ নারী কৃষকের হাতে কার্যকর ভূমির মালিকানা রয়েছে ফলে তারা কৃষিঋণ, ভর্তুকি, সরকারি ইনপুট বা প্রণোদনা সুবিধা গ্রহণে নিয়মিত বাধার মুখে পড়েন। ঘরে ও ক্ষেতে দ্বৈত শ্রম করা সত্ত্বেও তাদের কাজের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই। এর ফলে মজুরি সমতা, সামাজিক মর্যাদা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অবস্থান দুর্বল থাকে।

মেলায় অংশগ্রহণকারী নারী কৃষকেরা জানান, আমাদের কাজের তো আর্থিক মূল্য ও নাই, পারিবারিক স্বীকৃতিও নাই। তাই আমরা এসব আশা না করেই কাজ করতে শিখেছি৷ কিন্তু আজ এই অনুষ্ঠানে এসে মনে হলো আমাদের জন্যও ভাবনা শুরু হয়েছে। নিশ্চয়ই পরিবর্তন হবে আগামীতে। বদলাতে হবে চিন্তার ধরন, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, দেশের খাদ্যব্যবস্থাকে ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নারী বান্ধব করতে হলে একটি “খাদ্য অধিকার আইন” প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। যদি প্রতিটি নাগরিকের খাদ্য অধিকার আইনগতভাবে সুরক্ষিত হয়, তাহলে কৃষির সঙ্গে যুক্ত নারীরাও উৎপাদনে, বাজারে এবং নীতিতে ন্যায্য অবস্থান ও সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই করতে হলে খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন, বণ্টন ও নীতি পরিকল্পনায় নারীর প্রয়োজন, অধিকার ও শ্রমের স্বীকৃতি ।

অনুষ্ঠানের শেষে স্থানীয় কৃষিক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে অবদান রাখা তিনজন নারী কৃষককে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ নারীদের দৃশ্যমানতা বাড়ায়, আত্মবিশ্বাস জোরদার করে এবং পল্লী অর্থনীতিতে তাদের কেন্দ্রীয় ভূমিকা আরও শক্তিশালী করে।

এই ওয়েবসাইটের সকল কোনো লেখা, ছবি, অডিও বা ভিডিও “norsundanews24” কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কপি করা দন্ডনীয়। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করলে কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।